জানা যায়, উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার আটগাঁও কাশিপুর লাইরাদিঘা গ্রুপ–এ জলমহালটি ছয় বছরের জন্য ইজারা গ্রহণ করে। ইজারার মেয়াদের তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর একটি প্রতারক চক্র ভুয়া সাব-লীজ দলিল তৈরি করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জলমহালটি পুনরায় ইজারা নিয়ে কৌশলে দখলের চেষ্টা চালায়।
২০২৩ সালে চক্রটির মূল হোতা হিসেবে পরিচিত ডালাস রাজীব উদ্দিনের মাধ্যমে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি খারিজ করে উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে রায় প্রদান করেন।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ৪৪৩ একর আয়তনের কাশিপুর লাইরাদিঘা গ্রুপ–এ জলমহালটি বাংলা ১৪২৭ থেকে ১৪৩২ সন পর্যন্ত ইজারা নেয় এবং নিয়মিত সরকারকে রাজস্ব প্রদান করে আসছে। চলতি বছরই মাছ আহরণের শেষ সময়সীমা হওয়ায় প্রতারক চক্রটি জলমহালটি দখলের নতুন পাঁয়তারা শুরু করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যর্থ হয়ে প্রতারক চক্রটি এবার রুমেন নামের আরেক ব্যক্তির মাধ্যমে নতুন করে আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলায় দাবি করা হয়, সমিতির সভাপতি প্রজেশ দাস রুমেনকে জলমহালটি সাব-লীজ দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া সাব-লীজ চুক্তিনামা আদালতে দাখিল করা হয়েছে, যাতে প্রশাসনের মাধ্যমে মাছ আহরণ বন্ধ করে অবৈধভাবে জলমহালটি দখল করা যায়।
সমিতির সভাপতি প্রজেশ দাস অভিযোগ করে বলেন, “একটি অসাধু চক্র ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে জলমহাল দখলের চেষ্টা করছে। আমরা বৈধভাবে সরকারের কাছ থেকে ছয় বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি, নিয়মিত রাজস্ব দিচ্ছি এবং পরিশ্রম করে মাছ চাষ করছি।”
ভুক্তভোগী মৎস্যজীবীরা জানান, ডালাস ও রুমেন মিয়া নামের ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় জলমহালটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বলেন, “আগেও মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হয়েছে, আদালতে আমরা রায় পেয়েছি। এখন আবার একই কৌশলে আমাদের জীবিকার একমাত্র উৎসটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
ভুক্তভোগীরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।
